বড়দিনে পুতিনকে লক্ষ্য করে মৃত্যু কামনা জেলেনস্কির
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং বড়দিনের উৎসবের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ভিডিওবার্তা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বড়দিনের প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ প্রকাশিত ঐ বার্তায় তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম সরাসরি না উচ্চারণ করলেও এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে পুতিনকে লক্ষ্য করে “ধ্বংস কামনা/মৃত্যুকামনার ইঙ্গিত” হিসেবে ধরা পড়েছে।
ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে কষ্ট দিয়েছে, বোমা মেরেছে—তবু তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি “দখল” করতে পারেনি: ইউক্রেনীয়দের হৃদয়, পরস্পরের ওপর বিশ্বাস এবং ঐক্য। এরপর তিনি যোগ করেন, আজ সবাই “একটি স্বপ্ন” ভাগ করে নেয় এবং সবার জন্য “একটিই ইচ্ছা”—“সে ধ্বংস হোক”—যা তিনি “নিজেদের মধ্যে” মানুষ যে কথাটি বলে—সেভাবেই উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে রাশিয়া দেশটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩ জন নিহত হয় এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট/লোডশেডিং শুরু হয়।
জেলেনস্কি বড়দিনের ভাষণে ওই হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বড়দিনের আগের রাতেই রাশিয়া আবার দেখিয়েছে “তারা আসলে কে”—এবং তিনি হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘কিনঝাল’সহ নানা অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।
একই সময়ে যুদ্ধ থামাতে জেলেনস্কির নেতৃত্ব ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চলের কিছু এলাকায় ডিমিলিটারাইজড জোন (সেনাশূন্য অঞ্চল) তৈরির ধারণা এবং উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের শর্তের কথা উঠে এসেছে—জেলেনস্কির বক্তব্য, কিয়েভ তখনই সেনা সরাবে যখন মস্কোও সেনা সরাবে এবং এলাকায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ/নজরদারি থাকবে।
এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউক্রেনে গণভোট প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে কিছু গণমাধ্যম।
সব মিলিয়ে বড়দিনের আবহে জেলেনস্কির বক্তব্য একদিকে ইউক্রেনীয় জনমনে যুদ্ধকালীন ক্ষোভ ও প্রতিরোধের ভাষা, অন্যদিকে “শান্তি”কে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা—এই দুই বার্তাই একসঙ্গে হাজির করেছে।
প্রতি / এডি /শাআ











